ডিজিটাল মার্কেটিং প্রকৃতপক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অন লাইন পদ্ধতিতে দ্রব্যের বাণিজ্যিকীকরন। বানিজ্যিকীকরনের ডিজিটালাইজেশন অর্থাৎ ওয়েবসাইট বা ব্লগ ব্যবহার করে পণ্যদ্রব্যের ব্যবসা করাকে বোঝানো হচ্ছে। ব্যবসায়িক দিক থেকে দেখতে গেলে ডিজিটাল বিপণনের মাধ্যমে পণ্যদ্রব্য এবং ক্রেতার মধ্যবর্তী দূরত্ব হ্রাস পায়।

একটি সদ্য শুরু হওয়া কোম্পানি একটি বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দিতা করতে পারে ডিজিটাল বিপণনের সাহায্য নিয়ে। এমনকি ডিজিটাল বিপণন প্রতিটি স্মার্ট ফোনকে শপিং ব্যাগে পরিনত করতে পারে। যেকোন ব্যবসা ডিজিটাল বিপনেনর সাহায্যে তাদের নির্দিষ্ট গ্রাহকের বাইরের গ্রাহকদেরও আকর্ষিত করতে পারে। ডিজিটাল বিপণনের সঙ্গে ব্যবসাগুলির বিনিয়োগের উপর রিটার্ন অনেকটাই বেশি পায়। প্রাথমিক বিনিয়োগ কম হওয়ার জন্য পণ্যদ্রব্যের বাজারিকরনের অনুকূল হয়ে উঠছে ডিজিটাল মার্কেটিং। ফেসবুক, গুগুল , ইউটিউব, লিঙ্কড ইন, ইন্সটাগ্রাম এবং অনান্য প্ল্যাটফর্মগুলিতে প্রায় ৪৬২ কোটির বেশি সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং ২৩০ কোটির বেশি মোবাইল সোসাল মিডিয়া ব্যবহারকারী রয়েছে। বিপণন ডিজিটাল মাধ্যমে ৬৮ শতাংশ অধিকার করে রয়েছে সেখানে মুদ্রন মাধ্যম ৯শতাংশ, রেডিও ৬ শতাংশ এবং টিভি ৫ শতাংশ দখল করে রয়েছে। সোসাল মিডিয়াতে বিজ্ঞাপন ব্যায় ২৯ শতাংশ এবং ভিডিওতে এটি প্রায় ২০ শতাংশ হয়।

জনপ্রিয় ডিজিটাল বিপণন চ্যানেলগিুলি হল
১। ইমেল – বিপণন
২। পে পার ক্লিক (Pay Per Click Advertising – PPC)
৩। সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন (Search Engine Optimization – SEO)
৪। ডিসপ্লে বিজ্ঞাপন (Display Advertisement)
৫। সোসাল মিডিয়া মার্কেটিং (Social Media Marketing -SMM)
৬। কনটেন্ট মার্কেটিং (Content Marketing)
৭। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing)
৮। অন লাইন পাবলিক রিলেশন (Online Public Relation)

দক্ষতা অর্জনের লক্ষে ডিজিটাল মার্কেটিং পেশাদারদের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সমীক্ষা অনুসারে গত ৫ বছরে ডিজিটাল বিপণনের জন্য চাকরির সুযোগ ৮০০ শতাংশ বেড়েছে। এবং উদ্যোগপতিদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।

অন্যদিকে তুলনামূলক ন্যূনতম কোর্স ফিতে পড়ে ডিজিটাল মার্কেটিং আনান্য পেশার তুলনায় ৬০ শতাংশ দ্রুত কর্ম সংস্থানের সুযোগ করে দেয়। এই শিল্প, প্রার্থীদের বছরে গড়ে ১.৮ গুন বেতন বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছে। এটি পরোক্ষভাবে পার্ট টাইম কর্মীদের আয়ের বিশাল সুযোগ করে দিয়েছে। উচ্চমানের এমএনসি, এসএমই এবং স্টার্ট আপ কোম্পানিগুলিতেও ডিজিটাল বিপননে পেশাদার ও ফ্রিল্যান্সারদের চহিদা বাড়ছে। ভবিষ্যতে ব্যবসায়ের ১/৩ অংশ ডিজিটাল প্রোগ্রামে রূপান্তর করার পরিকল্পা রয়েছে। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে পেশাদার কোর্স করার পর প্রথম কর্মজীবনে ১০,০০০ টাকা থেকে ১৫,০০০ টাকা গড়ে মাসিক বেতন হিসাবে উপার্জন করা সম্ভব।

বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পেশার চাহিদা ক্রম বর্ধমান। সেকারনে উড়ান স্কিল প্রোগ্রামের এর সহযোগিতায় উত্তর কলকাতা এবং দক্ষিন কলকাতায় ৩ থেকে ১২ মাসের ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের যোগ্য পেশাদার সার্টিফিকেট, ডিপ্লোমা এবং অ্যাডভান্সড ডিপ্লোমা কোর্স চালু করা হয়েছে।

ন্যূনতম ১০ + ২ পাশ হলে অথবা যারা চাকরি ও কর্মজীবনের সুযোগ খুজছে তারা এই কোর্স করতে পারেন। অভিজ্ঞতা এবং দক্ষত বাড়াতে এবং সুস্থ ব্যবসা পরিচালনা করতে এই পেশাদার কোর্সগুলি করা যায়। একজন সফল ডিজিটাল বিপণন কর্মী হওয়ার জন্য বিশেষ কয়েকটি অপরিহার্য দক্ষতা থাকা দরকারন্যূনতম ১০ + ২ পাশ হলে অথবা যারা চাকরি ও কর্মজীবনের সুযোগ খুজছে তারা এই কোর্স করতে পারেন। অভিজ্ঞতা এবং দক্ষত বাড়াতে এবং সুস্থ ব্যবসা পরিচালনা করতে এই পেশাদার কোর্সগুলি করা যায়। একজন সফল ডিজিটাল বিপণন কর্মী হওয়ার জন্য বিশেষ কয়েকটি অপরিহার্য দক্ষতা থাকা দরকার।

যেমন বিক্রয় দক্ষতা, যুক্তিগতভাবে চিন্তা করার দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং বিশ্লেষণাত্মক ক্ষমতার সংমিশ্রন, ভালো কপিরাইটিং এবং ভিস্যুয়াল গল্প বলার ক্ষমতা এবং পছন্দসই ব্যক্তিত্ব।

ডিজিটাল বিপণন ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রাথমিক বেতন বিভিন্ন কোম্পানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন। তবে মূল বেতন এদেশের বেতন স্কেল অনুযায়ী স্থায়ী থাকে। প্রাথমিক স্তরের ডিজিটাল বিপণনকারীদের জন্য বার্ষিক গড় বেতন ৩ লাখ থেকে ৩.৫ লাখ পর্যন্ত নির্দিষ্ট করা থাকে।

1 Comments

Post a Comment

Previous Post Next Post